বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন
জয়া আহসান, ‘ব্যাচেলর’ সিনেমা দিয়ে প্রথম পা রাখেন বড়পর্দায়। আলোচিত হয় প্রথম সিনেমাটি দিয়েই। দর্শকের নজরে কাড়েন সেই প্রথম সিনেমাই। এরপর তো শুধুই নতুন নতুন গল্প তার। হয়ে গেলেন দুই বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী। দুই দেশের অসংখ্য সিনেমায় কাজ করে এমন বেশ কিছু সাফল্য পেয়েছেন জয়াÑ যা তাকে শীর্ষস্থানে নিয়ে গেছে। সেই সূত্রে কাজ করেছেন বলিউডে। পুরুষদের মধ্যে যেমন ফেরদৌস আহমেদ নারীদের মধ্যে তেমন জয়া আহসান। বাংলাদেশ থেকে এ দুজন অভিনয় শিল্পীই একই সঙ্গে দুই বাংলায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে গেছেন। জয়া চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে প্রতিটি কাজে পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের ভরসার প্রতিদান দিয়েছেন। তার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে তাকে নিয়ে নতুন নতুন কাজের পরিকল্পনা করছেন দুই বাংলার নির্মাতারা।
এদিকে ইরানি পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজম পরিচালিত জয়া অভিনীত নতুন সিনেমা ‘ফেরেশতে’ প্রশংসিত হয়েছে। সিনেমাটির কলাকুশলীরা ভারতের গোয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ অভ্যর্থনায় ঋদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে ইরানের চলচ্চিত্র উৎসবে তার সিনেমা ‘ফেরশতে’ প্রতিযোগিতা করছে। এই সিনেমাটি ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসবেও উদ্বোধনী সিনেমা হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছিল।
আর এ দিকে, এই ভালোবাসার মাসেই আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে জয়া অভিনীত সিনেমা ‘পেয়ারার সুবাস’। ওই সিনেমার প্রয়োজক শাহরিয়ার শাকিল জানান, সাত বছর পর জটিলতা কাটিয়ে গত বছরের নভেম্বরে সেন্সর সার্টিফিকেট পেয়েছে ‘পেয়ারর সুবাস’।
শোবিজে লম্বা ইনিংস খেলার প্রত্যয়ে মাঠে নামেন জয়া আহসান। বয়স পঞ্চাশের কোঠায় এলেও বর্তমানে দুই বাংলার সবচেয়ে কাক্সিক্ষত ও নন্দিত অভিনেত্রীতে পরিণত এই তারকা। ধারাবাহিক সাফল্য আর নব নব আনন্দে খবরে ভাসছেন। শুধু একের পর এক কাজ করা নয়, প্রতিটি সিনেমায় বক্স অফিসের সাফল্যকে অনেকটাই সুনিশ্চিত করেছেন। ঢাকা থেকে গিয়ে কলকাতার সিনেমায় এমন ঈর্ষণীয় জায়গা করে নেয়া অভিনেত্রী জয়া। যার সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে তো বটে, বরং আরও প্রবল হচ্ছে। দেশের পাশাপাশি টলিউড সিনেমায় বাণিজ্যিক সাফল্য এবং প্রশংসা উভয়ই নিজের ক্যারিয়ারের প্রাপ্তির ঝুলিতে ভরেছেন। বাণিজ্যিক ধারার বাহিরে এসে অভিনয় মেধায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টায় সফল জয়া। অবশ্য বর্তমান সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিও অনেকটাই ডিজাইনার অ্যাক্টর নির্ভর। সেই চাহিদা এবং প্রত্যাশার ক্ষেত্রে জয়াও যে পরিণত মুখ, সঙ্গে গ্লামার আর ট্যালেন্টের প্যাকেজ। নায়িকা চরিত্রের গড়পড়তা ধারা থেকে বেরিয়ে চরিত্রনির্ভর অভিনয়ে সিদ্ধহস্ত জয়া। চরিত্রের খাতিরে তাই বারবার জয়াকেই বেছে নিচ্ছেন পরিচালকরা। জয়া বলেন, আমি চাইলে সুন্দর সেজে গাছের তলায় দাঁড়িয়ে বহু সিনেমা করতে পারতাম। করিনি। তার জন্য টাকার লোভ, খ্যাতির লোভ সংবরণ করেছি। চেয়েছিলাম ‘আনকনভেনশনাল’ কিছু করতে।
দেশ-বিদেশে নানা স্বীকৃতি ছাপিয়ে মাহমুদ দিদারের ‘বিউটি সার্কাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পঞ্চমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন জয়া। সিনেমায় সার্কাসের বিউটি চরিত্রে তার বাবা হত্যার প্রতিশোধের অদম্য লড়াই চালিয়েছেন। পুরস্কারটি জয়া উৎসর্গ করেছেন, যাত্রাশিল্পীদের প্রতিটি মানুষের প্রতি। নিজ দেশের পাশাপাশি ওপার বাংলাতেও একাধিক সিনেমায় নিজেকে শীর্ষ স্থানে রেখেছেন তিনি। তার সঙ্গে টেক্কা দিয়েও পিছিয়ে ছিল অনেকেই। বিশেষ করে ওপার বাংলার মিমি চক্রবর্তী, নুসরাত জাহান, পাওলী ধাম, শ্রাবন্তী চট্টপ্যাধায়দের পেছনে ফেলে বাংলাদেশের জয়াই ছিলেন সর্বাধিক আলোচনায়। কারণ ওপার বাংলার একাধিক নায়িকার সিনেমা মুক্তি পেলেও একই সময়ে মুক্তি পাওয়া জয়ার সিনেমাই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া একাধিক সিনেমায় সাফল্যের সূত্রে বলিউডেও কাজ করেছেন তিনি। সেখানেও তিনি তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফলে শীর্ষ নির্মাতা এবং প্রযোজকরা জয়াকে নিয়ে নতুন নতুন কাজের পরিকল্পনা করছেন।